
কর্ণফুলী (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা :
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম জোরদার ও সমন্বয় বৃদ্ধির লক্ষ্যে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে ব্র্যাকের উদ্যোগে জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিস বাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় এমওডিসি ডা. তাসিন মোস্তফার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. মোছাম্মৎ জেবুন্নেছা বলেন, এখনও অনেক মানুষ জানেন না সরকারি হাসপাতালে কী কী চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায়। কর্ণফুলী উপজেলায় চারটি হেলথ সাব-সেন্টার রয়েছে। এখন থেকে এসব সেন্টারে সপ্তাহে দুই দিন করে এমবিবিএস ডাক্তার বসবেন, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা পেতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, ওষুধ সরবরাহ সীমিত হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সাব-সেন্টারগুলোতে ওষুধ সরবরাহ করা হবে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ‘সবুজ বই’ সংগ্রহের মাধ্যমে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন রোগের ওষুধ পাওয়া যাবে।
ডা. জেবুন্নেছা জানান, কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে একজন সার্জারি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যোগ দিয়েছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ল্যাবে গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় প্রাথমিক পরীক্ষাগুলো করা যায় এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম ছাড়া প্রায় সব ধরনের পরীক্ষা এখানে সম্ভব।তিনি বলেন, যক্ষ্মা রোগীদের জন্য সব ধরনের ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দেওয়া হয়। কিন্তু অনেক রোগী না জেনে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করাতে গিয়ে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করেন। অথচ এসব পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে অনেক ক্ষেত্রে বিনামূল্যে বা স্বল্প খরচে করা যায়।
এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য সরকারি নির্ধারিত ফি নেওয়া হয় বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক ক্যাম্পেইন আয়োজনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উপস্থিত অতিথি ও স্বাস্থ্যকর্মী ডাক্তাররা জানান—
গরম মৌসুমে ডেঙ্গু ও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন উপস্থিত অতিথি ও স্বাস্থ্যকর্মী ডাক্তাররা। তারা বলেন, কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে এ দুই ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তারা আরও জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আশপাশে কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমে থাকতে দেওয়া যাবে না। কারণ জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস প্রজাতির মশা জন্মায়। তাই বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। পাশাপাশি দিনের ও রাতের বেলা ঘুমানোর সময় অবশ্যই মশারি টানিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যকর্মীরা বলেন, ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য ওষুধ গ্রহণ করা উচিত নয়। দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ও চিকিৎসা নিতে হবে।
অন্যদিকে তীব্র গরমে হিটস্ট্রোক হলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত ঠান্ডা স্থানে নিয়ে যেতে হবে এবং পানি পান করাতে হবে। শরীরে অতিরিক্ত ভারী কাপড় থাকলে তা খুলে দিতে হবে, যাতে শরীর দ্রুত ঠান্ডা হতে পারে। পাশাপাশি যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন তারা।বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা ও সতর্কতা মেনে চললে ডেঙ্গু ও হিটস্ট্রোকজনিত ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. আরিফা সুলতানা, ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার জান্নাতুল শামুয়া, কর্ণফুলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হিসাবরক্ষক সৈয়দা শারমিন আক্তার, ব্র্যাক স্বাস্থ্য কর্মসূচির ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ অফিসার মো. শাহজাহান, ফিল্ড অর্গানাইজার জুয়েল তনচংগ্যা, চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের ইউপিএও আব্দুল মালেক, চরলক্ষ্যা ইউনিয়নের ইউপিএও মনোয়ারা বেগম, শিকলবাহা ইউনিয়নের ইউপিএও উকিল আহমদ, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর টিটুকান্তি পাল, স্বাস্থ্য পরিদর্শক কাজী শাহীন আক্তার, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা উশ্রী দাশ গীতা, এমটিইপিআই কর্মকর্তা মুহাম্মদ আলী আকবর, এমটি ল্যাব মো. মাহমুদুল হাসান, জুলধা ইউনিয়নের ইউপিএও মিলটন চৌধুরী, এসএসিএমও জুয়েল সরকার, অফিস সহায়ক তাওহিদুল ইসলাম এবং কার্ডিওগ্রাফার লাকী দাশসহ সংশ্লিষ্টরা।